NEWNewsটপ নিউজমুহুর্তের খবররাজনীতিরাজশাহীরাজশাহী সংবাদরাজশাহী সংবাদসংবাদ সারাদেশসারাদেশ

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগের দাবির ঘটনা নিয়ে বিতর্কিত মানব বন্ধন

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মোঃ জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ লুটপাট ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে একটি বিতর্কিত অবস্থান কর্মসূচির জন্ম দিয়েছেন একটি পক্ষ।
সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাভিত্তিক এই পরিকল্পনা করা কর্মসূচতে ভিসির নামে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তাঁর দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান কথিত মানব বন্ধন থেকে।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ভিসি ডা. জাওয়াদুল হক রাজনৈতিক খোলস বদলে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়েই দুর্নীতিতে মেতে ওঠেন।
কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প এলাকার প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের দুই হাজার গাছ কেটে লুটপাট করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া ১৯ কোটি টাকা মূল্যের পুরাতন ভবন ও সীমানা প্রাচীর ভাঙার অর্থ আত্মসাৎ, কোটি টাকার আম মাত্র ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি এবং পুকুর-ফসলি জমি লিজ ও দোকান ভাড়ায় কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ আনা হয়।
৭৭৭ কোটি টাকার ৫টি ভবন নির্মাণের টেন্ডারে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে পিপিপিআরের (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস) নিয়ম লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ ও বিতর্কিতদের নিয়ে টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়। ঠিকাদারের কাছে ৯% ঘুষ দাবির খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনি সামাজিক ও গণমাধ্যমে ‘মিস্টার ৯ পারসেন্ট’ ভিসি হিসেবে পরিচিতি পান।সম্প্রতি সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে আইনবহির্ভূতভাবে লিথো ও ওএমআর পেপার সরবরাহের কাজ দেয়ারও অভিযোগ করেন সেই বিতর্কিত মানব বন্ধন থেকে।

ব্যানারে দাঁড়ানো ব্যক্তিরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, ইউজিসি নীতিমালা ও সরকারি নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে ভিসি স্বেচ্ছাচারীভাবে নিয়োগ বাণিজ্য চালাচ্ছেন।৯ম গ্রেডের সেকশন অফিসার নাজমুল হোসেনকে অবৈধভাবে ৫ম গ্রেডের পিএসসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। একই সাথে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও পছন্দসই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রেজিস্ট্রার, কলেজ পরিদর্শক ও পরিচালকসহ ৯টি উচ্চ পদে বারবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলেন।

এছাড়াও আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ কলেজ পরিদর্শককে ডিন পদে দায়িত্ব দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।
বাস্তবায়ন তদারকি ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সীমানা প্রাচীর, গেট নির্মাণ এবং বালু ও মাটি ভরাটের কাজে ভয়াবহ কারিগরি ত্রুটি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি করেন। পাশাপাশি একজন প্রাইভেট প্র্যাকটিসবিহীন কমিউনিটি মেডিসিনের চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ও তাঁর পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। রাজশাহী ও ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট, বহুতল ভবন ও জমি সহ নামে-বেনামে অঢেল সম্পত্তি গড়ে তোলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন সেই বিতর্কিত ব্যানার থেকে।

তারা আরও উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের আমলে ডা. জাওয়াদুল হক চিকিৎসক সংগঠন ‘স্বাচিপ’-এর ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী হিসেবে একসাথে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে রেখেছিলেন। তৎকালীন তদন্ত কমিটির কাছে লিখিতভাবে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করার’ অঙ্গীকার করে পার পেয়ে যান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর খোলস বদলে লবিংয়ের মাধ্যমে ভিসির পদ বাগিয়ে নেন। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এই ‘মহাদুর্নীতিবাজ’ ভিসির পদত্যাগ ও তাঁর করা সকল অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন ভিসি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে বলেও হুমকি প্রদান করেন।

অপর দিকে একজন সৎ ও মেধাবী ভিসির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলায় ফুঁসে উঠেছে রাজশাহীর আমজনতা।তারা বলেন ভিসির নিকট সুবিধা না পেয়ে একটি মহল তার বিরুদ্ধে নানা গুজব ছড়াচ্ছেন। যখনই তাদের স্বার্থে আঘাত লাগে ঠিক তখনই বিভিন্ন মিডিয়া সহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের লিলিয়ে দেন পরিচ্ছন্ন এই ভিসির পেছনে। এমন ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান সুশীল সমাজের অনেকেই।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button