রাজশাহীর দুর্গাপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম করে স্কুলে দখলবাজি তিন বছর পুর্বের বিতর্কিত নিয়োগ বহাল সহ ডজন অভিযোগ উঠেছে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবার বিরুদ্ধে। যোগদান করেই কিছুদিনের মধ্যে এই প্রথম ডজন অভিযোগ উঠেছে একজন নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।পুর্বের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কিছু বিতর্কিত কার্যক্রম তিনি নিমিষেই রূপান্তর করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।বিষয় গুলো নিয়ে সচেতন নাগরিক থেকে রাজশাহীর বিভাগীয় কলমিশনার ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানাগেছে।
সম্প্রতি সময়ে সার জব্দের পরিমাণ নিয়ে ও বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী সার ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন তাঁর বাড়ি থেকে ৯৯৫ বস্তা সার জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা। অথছ তারা ৬৭০ বস্তা জব্দ দেখিয়েছে। বাকি ৩২৫ বস্তা সার গায়েব করেচহেন তারা। হাওয়া হয়ে যাওয়া সারের মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে সার ও অনান্য অভিযোগ এর বিষয় নিয়ে জানতে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনীর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কিসমত গণকৈড় ইউনিয়নের আড়ইল এলাকায় সাইদুল ইসলামের বাড়িতে ইউএনও এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয় । এ সময় অভিযুক্ত সার সিন্ডিকেটের মূল হোতা সাইদুর পালিয়ে যায়।
উক্ত অভিযানে টিএসপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার জব্দ করা করেন তারা। সাইদুল ও স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি, তাঁর বাড়িতে মোট ৯৯৫ বস্তা সার ছিল। তাঁদের অভিযোগ, জব্দ তালিকায় ৬৭০ বস্তা দেখিয়ে বাকি ৩২৫ বস্তা সার সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওই সার বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে তাদের নামে।
আশ্চর্যের বিষয় সেই অবৈধ সার উদ্ধারের দাবিতে সাইদুল উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা করেন সেই সময় তাঁকে বলা হয়, ‘আপনি সার পাবেন না। প্রশ্ন উঠেছে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি যার হাজতে থাকার কথা তিনি প্রকাশ্যে কিভাবে উপজেলা এসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্যারের দাবি করলেন। তাকে কেন আটক করা হয়নি এমন প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে।
সেই সার কোথায় বিক্রি হয়েছে—এমন প্রশ্ন থেকে জানাযায় কিসমত গণকৈড় ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স ডিআর ট্রেডার্সের শিপন কুমার সাহার কাছে এসব সার বিক্রি করা হয়েছে। এই বিষয়ে রিপন কুমার সাহার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে দুর্গাপুর পৌরসভার সাবেক বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ মণ্ডল সার বিক্রিতে সহযোগিতার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সেলিম ট্রেডার্সের মাধ্যমে সার বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার উজানখলশিতে তাঁর দোকানের সামনে এবং শনিবার পৌরসভা সদরে সেলিম ট্রেডার্সের মাধ্যমে সার বিক্রি করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। আরো একটি আশ্চর্যের বিষয় সেই অভিযানের পর সাইদুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা পর্যন্ত করা হয়নি। অন্য দিকে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ সাইদুল ইসলামের সার ব্যবসার বৈধ লাইসেন্স নেই। কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিয়ে কিভাবে তিনি চোরাইভাবে সার এনে দীর্ঘদিন বিক্রি করছেন।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছেন নবগঠিত সরকার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে যখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ঠিক তখন কিছু দুষ্কৃতিকারী এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের সুবিধার জন্য সরকারের ইমেজের কথা না ভেবে খেয়াল খুশিমতো কাজ করছেন বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগের বিষয়গুলো সরকারের উপরমহল থেকে খতিয়ে দেখা হোক। > চলবে >



