NEWNewsগোদাগাড়ীটপ নিউজতানোরমুহুর্তের খবররাজশাহীরাজশাহী সংবাদরাজশাহী সংবাদসংবাদ সারাদেশসারাদেশ

তানোরে সৌখিন মৎস্য শিকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ

তানোর প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) হরিপুর গ্রামে সৌখিন মৎস্য শিকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। পার্শ্ববর্তী নাকৈল গ্রামের হাবিবুর রহমান প্রতারণা করে ৫০ জন সৌখিন মৎস্য শিকারির কাছে থেকে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সৌখিন মৎস্য শিকারিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে,টাকা ফেরৎ না পেলে হাবিবুর রহমান গণপিটুনির শিকার হতে পারেন বলেও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে,নিয়ামতপুর উপজেলার নাকৈল গ্রামের মাছ চাষি হাবিবুর রহমান হরিপুর গ্রামে প্রায় ২০ বিঘা আয়তনের একটি দীঘি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন।মাত্র ৩ বছর আগে দীঘিটি পুনঃখনন করা হয়েছে।তিনি পুকুরে মাছ শিকারের জন্য  ৫০টি চৌকি বসান।একটি চৌকির মুল্য ৫৫ হাজার টাকা একটি চৌকিতে ৬টি ছিপ দেয়া হয়।এদিকে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ও ২৩ অক্টোবর শুক্রবার দুই দিনব্যাপী মাছ শিকারের আয়োজন করা হয়।তিনি ৫০টি চৌকির টিকেট বিক্রি করে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।কিন্ত্ত সৌখিন মৎস্য শিকারিগণ প্রতারিত হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দীঘি পাড়ের এক বাসিন্দা বলেন, লোক দেখানোর জন্য কিছু বড় মাছ দুদিন আগে ছাড়া হয়েছে এবং বুধবার গভীর রাতে পুকুরে মাছের খাবার ও ওষুধ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান,সম্প্রতি দীঘিতে টিকিট কেটে সৌখিন মৎস্য শিকারীদের জন্য বড়শি দিয়ে মাছ শিকারের ব্যাপক প্রচারণা করা হয়। দীঘির চারিদিকে ৫০টি চৌকি বসানো হয়। প্রতিটি চৌকির মুল্য ৫৫ হাজার টাকা। সেই হিসেবে প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। অথচ দীঘি থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার মাছ উঠেনি। গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর দুইদিন মাছ শিকার আয়োজন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার  বিভিন্ন এলাকার সৌখিন মৎস্য শিকারীরা মাছ শিকার করতে দিঘিতে হুইল-বড়শী ফেলেন। কিন্ত্ত কেউ বড় মাছ শিকার করতে পারেনি, যে দুএকটা পেয়েছেন সেটা পাঙ্গাশ  ও গ্লাসকার্প মাছ এমনকি  বেলে ও পুঁটি মাছ হুইলে উঠেছে, অন্য মাছের ওজন সর্বোচ্চ তিন কেজি, ৫৫ হাজার টাকার টিকেট কেটে একটিও বড় রুই বা কাতল মাছ কেউ শিকার করতে পারেননি। অথচ বলা হয়েছিল ১০ থেকে ১৫ কেজি ওজনের রুই ও কাতল মাছ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়  ও বহিরাগত একাধিক সৌখিন  মৎস্য শিকারী বলেন, মাছ ধরা বা না ধরা কোনো বিষয় না, কিন্ত্ত মাছের যে ওজন তাতে হাবিবুর রহমান আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। কারণ ১০ কেজি ওজনের একটি মাছও যদি কেউ শিকার করতে পারতেন তাহলেও বুঝতাম দিঘিতে বড় মাছ আছে। তারা বলেন,এ ঘটনায় সৌখিন  মৎস্য শিকারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে হাবিবুর তার লোকজন নিয়ে কৌশলে ভৌ-দৌড়ে পালিয়ে যায়। সৌখিন মৎস্য শিকারি মাদারিপুর গ্রামের ওলি বলেন,রাতে পুকুরে মাছের খাবার ও ওষুধ দেয়া হয়েছে যাতে বড়শিতে মাছ না ধরে।কারণ খাবার বা ওষুধ দেয়া না হলে মাছ অবশ্যই বড়শিতে ধরবে।তিনি টাকা ফেরত ও হাবিবুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। তিনি বলেন, টাকা ফেরৎ না দিলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ ও আদালতে প্রতারণার মামলা করবেন। সৌখিন মৎস্য শিকারি আব্দুল মালেক ও আহসান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন,এটা পরিকল্পিত প্রতারণা,এটা কোনো ভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী বলেন, এই দিঘিতে বড় মাছ নাই, তারা সৌখিন মাছ শিকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
কারণ সৌখিন মৎস্য শিকারিরা শখের বসে বড় মাছ শিকার করতে টিকেট কেটেছেন, তবে মাছের সাইজ দেখে বোঝা গেছে এটা প্রতারণা। তারা টিকিটের মুল্য ফেরত ও আয়োজকের শাস্তির দাবি করেছেন।এবিষয়ে জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জাল টেনে মাছ দেখানো হয়েছে এবং মাছ শিকারী সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।  কিন্ত্ত একটি মহল অবৈধ সুবিধা না পেয়ে এসব অপপ্রচার করছে।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button