NEWNewsগোদাগাড়ীটপ নিউজতানোরমুহুর্তের খবররাজশাহী সংবাদরাজশাহী সংবাদসংবাদ সারাদেশ

রাজশাহীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় 

তানোর প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের কালীগঞ্জহাট ডিগ্রী কলেজের (ভারপ্রাপ্ত)  অধ্যক্ষ আওয়ামী মতাদর্শী  সফিউজ্জামান ওরফে খোকন বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যম প্রায় শোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার  তানোর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাইদুর রহমান বাদি হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।কিন্ত্ত দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারণে অভিযোগের কোনো তদন্ত হয়নি।বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অধ্যক্ষ ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে, অধ্যক্ষ খোকনকে নিয়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। অন্যদিকে একজন সাবেক কাউন্সিলরের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। অভিভাবক মহল বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে,সরেজমিন তদন্তপুর্বক অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক এমপি ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচর অধ্যক্ষ খোকন দলীয় প্রভাববিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে কলেজের বিভিন্ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন।
প্রথম অভিযোগ, ভাইস প্রিনন্সিপাল নিয়োগে ১৭ লাখ টাকা বাণিজ্যে করেছেন অধ্যক্ষ  সফিউজ্জামান খোকন। দ্বিতীয় অভিযোগ, কলেজে ৪ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ৪৮ লাখ টাকা বানিজ্যে করেছেন অধ্যক্ষ। তৃতীয় অভিযোগ, শিক্ষকদের স্কেল পরিবর্তনে বাবদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বানিজ্যে করেছেন অধ্যক্ষ।
চতুর্থ অভিযোগ, জেলা পরিশোধ থেকে অনুদানের ২০ লাখ টাকা নয়ছয় করেছে অধ্যক্ষ।

পঞ্চম অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অনুদান ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে অধ্যক্ষ।
ষষ্ঠ অভিযোগ, ৩ বছরের জন্য কলেজের বাগান লীজ দিয়ে ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে অধ্যক্ষ। সব মিলিয়ে (এক কোটি দশ লাখ পয়ত্রিশ হাজার টাকা) আত্মণাৎ  করেছেন অধ্যক্ষ সফিউজ্জামান খোকন।

এদিকে অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ  তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন রকমের ভয় ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেন। এসময় অধ্যক্ষ আরো বলেন তুই যদি এগুলো কথা  কাওকে বলিস বা অভিযোগ করিস তাহলে তোকে গুম করে হাত, পা কেটে রাস্তায় ফেলে রাখবো। আমার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে আমার যা মনচাই তাই করবো তোর কিছু করার থাকলে করে নিস। যে কারণে প্রাণের ভয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিগত দিনে কেউ কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। এবিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ সফিউজ্জামান খোকন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে হেনস্থা করতে তার বিরুদ্ধে এসব বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button