বাঘার হাসপাতাল খেঁকো মুকুলের বিরুদ্ধে তিন দপ্তরে অভিযোগ-সাংবাদিকদের আল্টিমেটাম- পর্ব – ২
বাঘা প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর বাঘায় লুটপাট চাঁদাবাজি ও হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগে অভিযুক্ত সমালোচিত মুকুলের বিরুদ্ধে তিন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। জানা গেছে বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘিরে দুর্নীতি আর লুটপাট কান্ডের গুরতর অভিযোগে উঠে। এই ঘটনা নিয়ে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি রাজশাহী থেকে জাতীয় পত্রিকা স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল সহ অনলাইন পত্রিকার ৪ জন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে ছুটে যান বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ কালে জানতে পারেন হাসপাতালটিতে ভুয়া রুগী ভর্তি দেখিয়ে বেশ কয়েক মাস যাবৎ সরকারের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর ঠিকাদার মুকলেছুর রহমান মুকুল। ছাড়াও হাসপাতাল গেইটে মুকুলের নাম মাত্র ঔষধের দোকান চলে হাসপাতাল প্রধান ডাঃ আসাদুজ্জামানের সিন্ডিকেটে। মুকুলের ফার্মেসির মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ জুটে হাসপাতালের রুগীদের ভাগ্যে অপর দিকে হাসপাতালের জন্য আসা নতুন ঔষধ কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করেন মুকুল। এমন ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে রুবেল নামের একজন চিকিৎসক লাঞ্চিত হন মুকুলের হাতে। শুধু লাঞ্চিত নয় ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেন রুবেলের নিকট থেকে মুকুল বাহিনীর সদস্যরা।
তথ্য সংগ্রহ শেষে এমন হাসপাতাল কান্ড নিয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন কে মুঠোফোনে ফোন দেন সাংবাদিকরা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসপাতাল প্রধান আসাদুজ্জামান ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি সাথে নিয়ে হাসপাতালের প্রধান গেইটে এসে নিজেকে হাসপাতাল প্রধান ডাঃ আসাদুজ্জামান বলে পরিচয় দেন। এর পরে সাংবাদিকরা হাসপাতালটির প্রধান আসাদুজ্জামান এর নিকট জানতে চান হাসপাতালের বিরুদ্ধে উঠা এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন শেষ হতেই ডাঃ আসাদুজ্জামান এর ডান পাশে অবস্থান নেওয়া টাক মাথা ব্যক্তি প্রশ্ন করেন আপনাদের কে অভিযোগ দিয়েছেন কে পাঠিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকরা তার নাম জানতে চাইলে তার পাশে থাকা টুপি পরা হামিদ নামের ব্যক্তি বলেন তিনি বিএনপির নেতা, এর পরে সাংবাদিকরা তাকে আবার প্রশ্ন করেন তার নাম তখন হামিদ নামের ব্যক্তি বলেন তিনি এই হাসপাতালের ঠিকাদার ও হাসপাতাল গেইটে তার ফার্মেসী আছে মুকুল বললেই রাজশাহী জেলার সবাই চিনেন। এবার মুকুল সাংবাদিকদের রাজশাহী জেলা বিএনপির কিছু নেতার নাম ছুড়ে দিয়ে বলেন তাদের নিকট জানুন আমি কে?
মুকুলের এমন আচরনে সাংবাদিকরা হতবাক হয়ে পড়েন। তিনি প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের বলেন এখানে কি নিউজ করবেন? যদি খারাপ কোন নিউজ হয় তাহলে আমি সেই সকল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও মামলা করব। এর পরে সাংবাদিকরা মুকুলের সাথে কথা না বলে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হলে ২০ মিনিট পরে সাংবাদিক এর নিকট ফোন আসে তারা চলে আসার পর মুকুল ও ডাঃ আসাদুজ্জামানের লোকজন বাঘার সাংবাদিক হাসমত কে বেধড়ক মারধর করেছেন। এর ১০ মিনিট পরে আবারো সাংবাদিকদের নাম্বারে ফোন আসে পরিচয় দেন তিনি বাঘার সকালের সময় পত্রিকার সাংবাদিক হাসমত। কিছুক্ষন আগে মুকুল ও আসাদুজ্জামান এর লোকজন তাকে হাসপাতাল গেইটে মারধর করেছেন, হাসমতের সকল কথা সাংবাদিকরা রেকর্ড করেন।
হাসমত আরো বলেন কিছুদিন পুর্বে আমি এই মুকুল বাহিনীর বিরুদ্ধে থানায় একটা লিখিত অভিযোগ করেছিলাম আজ আপনারা হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে আসলে মুকুল ভেবেছেন আমি এনেছি তাই মারধর করলেন। এই ঘটনা নিয়ে আমি মামলা করব রাজশাহী আসছি। এর পরে হাসমত নামের সাংবাদিক রাজশাহী এসে কলরেকর্ড দেন মুকুলের নানা অপকর্মের।
মুকুলের লুটপাট আর অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়ার আগেই বাঘার একজন আওয়ামী লীগের পোষা সাংবাদিক বিভিন্ন ভাবে সংবাদ বন্ধে তদবির শুরু করেন। তার প্রস্তাবে সংবাদ বন্ধে রাজি না হয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে সেই শাহরিয়ার আলমের ঘনিষ্টজন দুই সাংবাদিক লুটপাট কারি মুকুলের পক্ষ নিয়ে রাজশাহীর পেশাদার সাংবাদিক এর বিরুদ্ধে মুকুল কে দিয়ে বক্তব্য দিয়ে অপ প্রচার করতে থাকেন।
তাদের এমন কান্ডে ফুঁসে উঠেছে রাজশাহীর পেশাদার সাংবাদিক মহল। সাংবাদিক নেতারা জানান জাতীয় ৮ টি পত্রিকা আইপি অনলাইন তিন টি ও দুই ডজন পোর্টালে মুকুল ও ডাঃ আসাদুজ্জামান এর দুর্নীতি লুটপাট কান্ডের সংবাদ প্রকাশ হয়ার পরেও কেন সাংবাদিকদের ভুয়া সাংবাদিক বলে কুটুক্তি করা হয়েছে। এ ছাড়াও পেশাদারিত্বের কারণে সাংবাদিকদের নামে জিডি মামলা হতেই পারে সেগুলো কোন দেশদ্রোহী হত্যা, ধর্ষণ মামলা নয়। কেন সাংবাদিকদের নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দিলেন দুর্নীতিবাজ মুকুল অপর দিকে যারা মুকুলের কালো অর্থে প্রভাবিত হয়ে সাংবাদিক পেশাকে কুলুষিত করে মুকুলের দেওয়া মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করেছেন তাদের কে ধিক্কার জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাব ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার রাজশাহী বিভাগীয় কমিটি।
সাংবাদিক নেতারা জানান এরই মাঝে মুকুলের বিরুদ্ধে দেওয়া তিনটি অভিযোগ এর কপি হাতে পেয়েছি। অতি দ্রুত লুটপাটের অভিযোগে অভিযুক্ত মুকুল ও ডাঃ আসাদুজ্জামান এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।



