রাজশাহীতে সুদকারবারি এ এস আই দম্পতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সুদের টাকা দিতে নাপারায় সেই ঋণ গ্রহীতাদের কিডনি বিক্রির উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকায় নিয়েছেন রাজশাহীর আরএমপি পুলিশের একজন সহকারি উপ-পরিদর্শক (এ এস আই)। জানা গেছে ঐ এ এস আই এর নাম মনিরুল ফেরদৌস। তিনি বর্তমানে আরএমপির মতিহার থানায় কর্মরত রয়েছেন। সুদের টাকা গ্রহণকারী সুমি আক্তার, মনিরা , ও লাবনী নামের তিনজন নারী ২০ জুলাই বুধবার রাত ৮ টার সময় রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা দাবি করেন পুলিশের এ এস আই মনিরুল ফেরদৌসের স্ত্রী মনিরা বেগম এক লক্ষ টাকা গ্রহনে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত লাভে প্রতিমাসে দেওয়া শর্তে পবা থানার বজরাপুর এলাকায় বেশ কিছু মানুষের নিকট কয়েক লক্ষ টাকা দীর্ঘদিন ধরে নেওয়া করছেন। তারা বলেন এরই ধারাবাহিকতায় ভুক্তভোগী সুমি মনিরা বেগম ও তার স্বামী মনিরুল ফেরদৌসের নিকট থেকে ১ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। তাদের শর্ত অনুযায়ী প্রতিমাসে সেই টাকার সুদ হিসেবে ১০ হাজার টাকা দিতে থাকেন।
কিছুদিন পরে সুমী আক্তারের অভাব অনটন বেড়ে যাওয়ার কারনে সুদের টাকা দিতে না পারায় মুনিরা দম্পতি সুমি আক্তারের উপরে চড়াও হন। সুমি আক্তার কে সুদের টাকার জন্য নানা ভাবে চাপ দিতে থাকেন। শুধু সুমি আক্তারই নয় কই এলাকার মনিরা, লাবনী সহ অনেকেই পুলিশ দম্পতির নিকট থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন শুরু করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে কান্না জড়িত কন্ঠে লাবনী বলেন তাদের তিনজন নারীকে সুদের টাকার জন্য বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি উকিল নোটিশ সহ নানাভাবে হয়রানি শুরু করেছেন সেই পুলিশ দম্পতি। অবশেষে সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সেই পুলিশ দম্পতি তাদের ৩৪ হাজার টাকা দিয়ে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাদের তিনজনের কিডনি বিক্রি করে ৩৬ লক্ষ টাকা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেন পুলিশ দম্পতি, প্রতিটি কিডনির মুল্য ধারণ করা হয় ১২ লক্ষ টাকা।
কিন্তু দুঃখের বিষয় কারণবশত তাদের কিডনি বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ দম্পত্তির সাথে সম্পর্ক থাকা সিন্ডিকেটের দল সরাসরি প্রতিবেশী দেশ ভারতে তিন নারীকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। চুক্তি হয় ভারতে তারা কিডনি দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসবেন । এমন চুক্তি মুঠোফোনের ভিডিওর মাধ্যমে তিন নারীকে দেখানো হয়। সেই সাথে ভারতের চক্রের সাথে ভিডিও কলে কথা বলেন ভুক্তভোগী তিন নারী সদস্য। এরপরে তারা বুঝতে পারেন শুধু কিডনি নয় তাদের ভারতে বিক্রি করে দেওয়া হবে। তারা পালিয়ে রাজশাহীতে ফিরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
তারা আরো বলেন সুদের টাকা গ্রহণ করার সময় সেই পুলিশ দম্পতি তাদের নিকট থেকে ফাকা স্ট্যাম্প ও ফাকা চেক নিয়েছেন। যদি তাদের সুদের অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা দিতে না পারি তাহলে তারা আদালতে মামলা দায়ের করবেন। অপরদিকে পুলিশের এএস আই মনিরুল ফেরদৌস বিভিন্ন সময়ে তাদের হুমকি ধামকি প্রদান করছেন। ভুক্তভোগীদের কোন প্রকার জিডি পর্যন্ত থানায় গ্রহণ করতে দেয়নি পুলিশের এএস আই মনিরুল ফেরদৌস। সুমি আক্তার বলেন সংবাদ সম্মেলন করার পরে তাদের উপর বড় ধরনের বিপদ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এক লক্ষ টাকা গ্রহণ করে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরেও আবার সুদ বেড়ে ১০ লক্ষ টাকা হয়েছে এটি হলো পুলিশ দম্পতির হিসেব। তাদের রষানল থেকে রক্ষা পেতে ও পুলিশ দম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার, পুলিশের মহাপরিদর্শকের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের সহ আদালতে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছেন ভুক্তভোগী নারীরা। পুলিশ দম্পতির ভয়ংকর সাম্রাজ্য এর মুখোশ খুলে দিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তারা।




