কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলার বরখাস্ত
গাজিপুর প্রতিনিধিঃ
একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কেন্দ্রকরে কারা বিভাগ গরম।গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির জেলার শিরিন আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ সোমবার (২০ জুলাই) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ জারি করে। এদিকে, ঘটনার তিন দিন পর পলাতক কয়েদি রিম্পাকে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-১ শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় সীমানাপ্রাচীর টপকে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রিম্পার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কারা অধিদপ্তরের সেই তদন্ত প্রতিবেদনে জেলার শিরিন আক্তারের কর্তব্য পালনে চরম গাফিলতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে। প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। বরখাস্ত থাকাকালীন তিনি বিধি মোতাবেক কেবল খোরাকি ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা পাবেন।অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অবসান ঘটেছে রিম্পার পলাতক জীবনের। রোববার (১৯ জুলাই) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-২। গ্রেপ্তারের পর তাকে পুনরায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কারাগার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন বিকাল ৫টার মধ্যে বন্দিদের নিজ নিজ কক্ষে (লকআপ) প্রবেশ করানোর কথা। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় গননার পর (আফটার লকাপ) কারাগারের ভেতরে কলমিলতা ভবনে প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত মেট্রনদের তদারকিতে ঘাটতি দেখা দিলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বন্দি রিম্পা (২১) কলমিলতা ভবন পার হয়ে মাধবীলতা সেলের পিছনদিক দিয়ে জেলার বাসভবনের দক্ষিণ পার্শের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে কারাগার থেকে পালিয়ে যান।
পলাতক রিম্পা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকার মো. হাসানের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে দণ্ড ভোগ করছিলেন।ঘটনার পর কারা কর্তৃপক্ষ ভিতরে প্রথমিক তল্লাশি চালিয়ে বন্দিকে কারাগারজুড়ে খুঁজে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে গেছেন।
কারা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই নজিরবিহীন পলায়নের পর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য, রিম্পা ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া একটি মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ওই কারাগারে বন্দি ছিলেন। এই ঘটনা জুড়ে কারাগার গুলো আরো সতর্ক অবস্থান করছে।




