কৃষক ভোগান্তি আর লুটপাটের তীর মাথায় নিয়ে সংসদের দেওয়া কাগজ ছিড়লেন কৃষি কর্মকর্তা- লাবনী
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
দুর্গাপুর উপজেলা জুড়ে সার সিন্ডিকেট কৃষক হয়রানি কালোবাজারির সময় সার জব্দ এমন সংবাদ নিয়ে যখন উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা টাল মাতাল, ঠিক তখনো দম্ভ সহ নিজের সুবিধা নিতে নানা হুমকিতে রেখেছেন উপজেলার কৃষি বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে কৌশলে পুরাতন ও নতুন ডিলারদের মধ্যে ডিলারশিপ বাতিলের আতংক সৃষ্টি করে দফায় দফায় সালামি নেওয়া হচ্ছে। পুরাতন বিসি আইসি ডিলারের কল রেকর্ড ধরে জানাযায় প্রতিমাসে বরাদ্দ হলেই এলোট, খাতা সাক্ষর, কৃষি অফিসের অনুষ্ঠানের জের ধরে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। বাধ্যতামূলক না হলেও নানা সমস্যা এড়িয়ে চলতে ডিলাররা দান বাক্সের মত এভাবেই দিয়ে আসছেন।
এসব অলিখিত দেনদরবার নিয়ে কোন ডিলার প্রতিবাদ করতে পর্যন্ত সাহস পায়না। দুর্গাপুর উপজেলার বিসি আইসি ডিলার লাল মোহাম্মদ এর ঘনিষ্ঠজন জানান বিসি আইসি ডিলারদের নেতা অনেক কিছু দেখভাল করে থাকেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী সিনেমা স্টাইলে তার প্রায় অর্ধকোটি টাকা মুল্যের প্রাইভেট গাড়িতে বিসি আইসি নেতা নিয়ে ঘুরেন। যার ভিডিও কল রেকর্ড তিনি সাংবাদিকের হাতে তুলে দেন। তিনি আরো বলেন সাহানা পারভীন লাবনী ম্যাডাম দুর্গাপুরে যে সকল কর্মকান্ডের জন্ম দিয়ে চলেছেন সেগুলো অনেকেই অবগত আমি আর মুখে বলতে চাই না।
সম্প্রতি সময়ে রাজশাহী (৫) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল এর পাঠানো একটি কাগজ তিনি প্রকাশ্যে ফেলে দিয়েছেন। ফেলে দেওয়ার সময় তিনি সংসদের নামে কুটুক্তি ও বিরক্ত প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি তার অফিসের একজন ব্যক্তি প্রমাণ হিসেবে ধারণ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দাপটে সেই ব্যক্তি প্রকাশ্যে কোন ধরনের প্রতিবাদ করতে না পারলেও প্রমাণ স্বরূপ রেখেছেন। প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে একজন উপজেলা কৃষিকর্মকর্তার সাহস হয় কিভাবে স্থানীয় সংসদের দেওয়া কাগজ ছুড়ে ফেলার। দুর্গাপুর পুঠিয়ার প্রবীণ বিএনপি নেতাকর্মীরাও এসেছেন সংবাদ চলমানের সামনে। দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির পদ ধারি একজন বিএনপির ত্যাগী নেতা বলেন কৃষি কর্মকর্তার চলাচল একজন সরকারি কর্মকর্তার মত মনে হয় না। তার বিভিন্ন কর্মকান্ড আমাদের নজরে এসেছে বিষয়টি নিয়ে আমাদের মাঝে আলাপ আলোচনা চলছে।
রাজশাহী জেলা বিএনপির একজন সদস্য বলেন দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বৃহস্পতিবারের ঘটনা সংসদের কাগজ ফেলেদেওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। তিনি আরো বলেন এই ঘটনা আমরা বুঝেই উঠতে পারিনি কিভাবে সম্ভব। তিনি দাবি করেন এর পেছনে কোন অপশক্তি আছে সেই শক্তিতে হয়ত দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ তিনি ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করছেন। স্থানীয় সার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ রাজশাহীর বাইরে থেকে তিনটি বিসিআইসি ডিলারশিপ পরিচালিত হয়, যাদের সাথে বড় ধরনের রফা দফা রয়েছে কৃষি কর্মকর্তার। পাবনার ডিলারদের মাঝেমধ্যেই ব্যাগ হাতে করে কৃষি কর্মকর্তার সাথে দেখা করতে দেখা যায়। এছাড়াও দুর্গাপুর উপজেলা জুড়ে কৃষি অফিস থেকে কোন ধরনের অভিযান লক্ষ্য করা যায় না। জনগণ, থানা প্রশাসন অথবা প্রান্তিক কৃষক কোন ধরনের কালো বাজারী অথবা সার সিন্ডিকেট কে ঘেরাও করলে তখন আমতা আমতা ভাব করে চাকরির তাগিদে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কৃষি কর্মকর্তা। এ বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন অনেকেই।
রাজশাহী কৃষি বিভাগের একটি সূত্র বলছেন দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনীর নামে এর আগেও অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি নিয়ে অজ্ঞাত কারণে তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি। শুনেছি তিনি উপরে কারো ক্ষমতা দেখান। উপর বাবাকে প্রকাশ্যে আনলেই তার বিতর্কিত কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে যাবে। সেই সাথে কৃষি বিভাগের মতো পরিচ্ছন্ন জায়গায় যেন কোন বিতর্কিত ব্যক্তি চাকরি করতে না পারে সেই বিষয়ে সরকারের প্রতি তিনি অনুরোধ করেন।
দুর্গাপুর পৌর বিএনপি’র একজন সদস্য জানান কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস সহ আগামী দুই একদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নিকট বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হবে। কেন তাকে চাকরি চ্যুত করে আইনের আওতায় আনা হবেনা সেই বিষয় অভিযোগে অনুরোধ করা হবে।




