NEWNewsটপ নিউজমুহুর্তের খবররাজশাহীরাজশাহী সংবাদরাজশাহী সংবাদসংবাদ সারাদেশসারাদেশ

শ্লীলতাহানি ও মারপিটের অভিযোগে রাজপাড়া থানায় মামলা; ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ কমিশনারের দূরদর্শিতায় আসামি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন লক্ষীপুর এলাকায় চিকিৎসা সেবা নিতে আসা নারীকে শ্লীলতাহানি, মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুইজনকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজপাড়া থানাধীন লক্ষীপুর এলাকায় আর রহমান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে।জানা যায়, ভুক্তভোগী তৌহিদের ভাবি রাজশাহী ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তার জন্য ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ কেনার উদ্দেশ্যে তৌহিদের স্ত্রী মোসাঃ রূপা খাতুন (১৯), স্ত্রীর বড়ভাই মোঃ রাজিব আলী (২৮) ও তার শ্বাশুড়ি লক্ষীপুর এলাকার একটি ফার্মেসিতে যান। ফার্মেসিতে লোক না থাকায় তারা সেখান থেকে ফিরে আসার সময় আর রহমান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে পৌঁছালে এজাহার নামীয় ১নং আসামি মোঃ মাসুদ রানা তাদের পথরোধ করেন এবং তাঁর পরিচিত একটি দোকান থেকে ওষুধ কেনার প্রস্তাব দেন।

এ প্রস্তাবে তারা রাজি না হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার নির্দেশে সেখানে উপস্থিত অন্যান্য অভিযুক্তরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগীর স্ত্রীকে ওড়না ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানি এবং ভুক্তভোগীর স্ত্রীর বড়ভাইকে মারপিট করে জখম করে। তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও এলোপাতাড়ি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে এবং দুই নারীকে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করে।

তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের নজরে এলে তাঁর নির্দেশনায় পুলিশ ভুক্তভোগীকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী এলাকা থেকে খুঁজে বের করে। গতকাল ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাজপাড়া থানায় তৌহিদ লিখিত এজাহার দায়ের করলে রাজপাড়া থানা তা আমলে নিয়ে মামলা রুজু করে।

মামলা রুজুর পরপরই পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির এর নির্দেশে রাজশাহী মহানগর পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে গতরাতে মহানগরীর লক্ষীপুর এলকার পুরাতন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পেছন থেকে মৃত গোলাম কিবরিয়া জিকিরের ২ ছেলে লাবিব সারাফাত রিদান (২১) ও হামিদুল আলম সনি (৩০)-কে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে রাজশাহী মহানগর পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজশাহীতে চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশী কেউ যদি দালালদের দ্বারা কোনরকম হয়রানির শিকার হন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সুত্র বলছে ফয়জুল কবির রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে আরএমপি পুলিশের ভাবমুর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বিভিন্ন দূরদর্শিতা দেখিয়ে তিনি মাদক নির্মূল সহ আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button