দূর্গাপুরপবাপুঠিয়াবাগমারামুহুর্তের খবরমোহনপুররাজশাহীরাজশাহী সংবাদরাজশাহী সংবাদসংবাদ সারাদেশসারাদেশ

উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পদ দুটিতেই নারী- আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কতটা ভূমিকা বহন করবে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
উপজেলার সিভিল আইন শৃঙ্খলার সকল কার্যক্রম একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ এন ও) অথবা উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ডের) উপর বর্তায়। উপজেলার যে কোন দুর্যোগ দুর্ঘটনা সহ সকল বিষয়ে তাদের যে কোন সময় ছুটে যেতে হয়। সম্প্রতি সময়ে উপজেলার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ঘিরে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

কয়েক বছর ধরে উপজেলায় নারী কর্মকর্তাদের ইউ এন ও হিসেবে পদায়ন করা হলেও, অধিকাংশ উপজেলায় একজন পুরুষকে এসিল্যান্ডের দায়িত্ব ভার দেওয়া হত। এতে করে উপজেলার সার্বিক সহায়তা সাধারণ উপজেলাবাসীর দৈড়গোড়ায় পৌঁছে যেত। সূত্র বলছে একজন নারী কর্মকর্তা পক্ষে সকল কার্যক্রম অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে তাই একই উপজেলায় দুইজন নারী কর্মকর্তা বে মানান। সুত্রটি আরো বলেন কমপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ দুটির একজন পুরুষ হওয়া প্রয়োজন।

রাজশাহীর কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে সম্প্রতি সময়ে একই উপজেলায় দুইজন নারী কর্মকর্তা। ইউ এন ও এসিল্যান্ড তো রয়েছেন সেই সাথে উপজেলার আরো কয়েকজন প্রধান কর্মকর্তা নারী। যাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেসরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে রীতিমতো ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ সকল নারী কর্মকর্তাদের নিয়ে ভোগান্তিতে পড়া একাধিক ব্যক্তি সংবাদ চলমান কে অভিযোগ করে বলেন, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শহর থেকে গ্রামে অফিস করেন কারণ তাদের পরিবার সন্তান শহরে বাস করেন। একজন নারী দূর থেকে পুরুষ মানুষের মত সময় মেনে অফিসে আসা দুরূহ হয়ে পড়ে। নারী কর্মকর্তার জন্য প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলে উঠে না।

নারী কর্মকর্তাদের অফিসে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চতুর্থ তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা মাতাব্বরি করে থাকেন। নারী কর্মকর্তার সময় মত অফিস না করার দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অফিসের চা বহন করা বাবুরাও ফুঁসে উঠেন বড় বাবুর মত। রাজশাহীর দুই একটি উপজেলায় এমন ঘটনার জন্ম হয়েছে। নারী কর্মকর্তাদের আরো একটি বড় গুণ তুলে ধরেন একজন ভুক্তভোগী। তিনি বলেন দুপুর পরেই তাদের আর সরকারি অফিসে পাওয়া যায় না। অনেকেই বাসায় গিয়ে দুপুরের লাঞ্চ করেন। অফিসের নিচের কর্মকর্তাদের বলে যান কেউ এলে বলবেন ম্যাডাম অফিসের কাজেই বাইরে রয়েছেন। তাদের এমন আচরণে অনেকেই বিব্রত।

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, ও এসিল্যান্ডের বিষয় তো আলাদা। তাদের আসা যাওয়ার বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষ জানতে চাওয়ার সাহস টুকুও পায় না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ডের প্রয়োজন পড়লে পরের দিনের অফিস সময়ের অপেক্ষায় থাকতে হয়। সাধারণ মানুষ অফিস সময়ের বাইরে তাদের ফোন করতেও ভয় পায়। যদিও বা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেভ করা নাম্বার ছাড়া তারা ফোন তোলেনা। তবে এমন দায়িত্বে থাকা পুরুষ কর্মকর্তার বিষয় একটু ভিন্ন। অফিস টাইমের আগেও পরে একটু চেষ্টা করলে তাদের ফোনে অথবা দেখা মিলে।

সম্প্রতি সময়ে সমস্যাগুলো আরো জটিল হওয়ার কথা ভাবছেন সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন রাজশাহী জেলার কয়েকটি উপজেলায় এ বছরে ও শুরু হতে যাচ্ছে অবৈধ পুকুর খননের কাজ। তাদের দাবি অসাধু পুকুর খনন কারিরা দিনের আলোতে সুযোগ না পেয়ে রাত্রী কালিন সময় পুকুর খননের উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেয়। আর তখনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা এসিল্যান্ডের প্রয়োজন হয়ে পড়ে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ কোন নারী কর্মকর্তা রাত জেগে অবৈধ পুকুর খননে জেল জরিমানা গাড়ি ভাংচুরের কাজে উপস্থিত থাকেনা।

তাদের কোন ভাবে ফোনে পাওয়া গেলে ও তারা থানার ওসিকে বলে দিচ্ছি এমন সুরেই ফোন কেটে দেন। অথবা দেখব দেখছি বলেই পুকুর খননের কাজ শেষ হয়ে যায়। অপর দিকে থানার একটাই দাবি জমি সংক্রান্ত বন্ধ ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা সহকারী কমিশনার ভূমির। অথছ থানার পেট মোটা এস আই এ এস আই গুলো সর্বক্ষণ অবৈধ ভাবে পুকুর খননের দায়িত্বে থাকা কর্তাদের সাথে ভিড় করেন। প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের যদি জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ না থাকে তাহলে কেন মাঝ রাতে টহল রত অবস্থায় পুলিশ ভিড় করেন পুকুর বাবাদের দরবারে। সচেতন মহলের দাবি বিষয় গুলোর চুল ছেড়া বিশ্লেষণ করবেন জেলা রাজশাহী জেলাপুলিশ সুপার।

অপর দিকে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের নিকট সচেতন মহলের দাবি বিশেষ করে রাজশাহী জেলার উপজেলা গুলোতে নারী পুরুষ সমন্বয় অথবা এককভাবে উপজেলার প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে পুরুষ পদায়ন করা হলে সাধারণ মানুষের সেবার মান উন্নত হবে।

এই ধরণের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button